মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৭ জানুয়ারি ২০১৬

ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম

            ঋণ কার্যক্রম 

 

            ৯.১।      ঋণ গ্রহীতা যাচাই ও বাছাই

 

                        ৯.১.১।       নতুন সদস্যদের প্রথম দফা ঋণের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত মূল ঋণের বিপরীতে ৫% হারে সঞ্চয় জমা আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। ২য় বা পরবর্তী যে কোন দফা ঋণের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত মূল ঋণের বিপরীতে ১৫% হারে সঞ্চয় জমা আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে ।

 

                        ৯.১.২।       নতুন কেন্দ্রে ১ সপ্তাহ পর ১ম ঋণ বিতরণ করা যাবে। একটি কেন্দ্রে এক সাথে সপ্তাহে অনধিক ৫ জন সদস্যকে ঋণ দেয়া যাবে । তারপর সপ্তাহে পর্যায়ক্রমে পরবর্তী সদস্যদের ঋণ প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে ।

 

                        ৯.১.৩ ।     পুর্বে ঋণ নিয়ে থাকলে তার কিস্তি নিয়মিতভাবে পরিশোধ করেছে কিন না তা দেখতে হবে ।

 

                        ৯.১.৪ ।      যে প্রকল্পের জন্য ঋণ দেয়া হবে তা লাভজনক হবে কি না তা দেখা এবং উক্ত কাজ সম্পর্কে সদস্যের পুর্ব অভিজ্ঞতা আছে কি না তা জানতে হবে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে ভাল ।

 

                        ৯.১.৫।       ১ম দফা ঋণের ক্ষেত্রে আবেদনকারী মহিলা হলে স্বামীর এবং পুরুষ হলে স্ত্রীর পাসপোর্ট সাইজের নতুন ছবিসহ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২) কর্তৃক সত্যায়িত করে ঋণের আবেদেনপত্রের সাথে সংযুক্ত করে উপ-আঞ্চলিক ব্যবসহাপক (ডিআরএম গ্রেড-১/২)-এর নিকট জমা দিতে হবে । পরবর্তী দফা ঋণের আবেদন ফরমের সাথে পুরাতন ছবি (পরিস্কার ও স্বচ্ছ) হলেই চলবে ।

 

                        ৯.১.৬।      ঋণ বিতরণের ১ সপ্তাহ পূর্বে আবেদন ফরম পূরণ করে উপ-আঞ্চলিক ব্যবসহাপক (ডিআরএম গ্রেড-১/২)-এর নিকট জমা দিতে হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে জরূরি পরিস্থিতিতে কম সময়ে ঋণের আবেদন ফরম পুরণ করা হলে তার কারণ আবেদনপত্রে লিখে রাখতে    হবে ।

 

                        ৯.১.৭।       প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যাওয়া সদস্য আবার প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে চাইলে তার ক্ষেত্রেও পুনরায় ২০ টাকা ভর্তি ফি নিতে হবে। এক্ষেত্রে সদস্য ও তার পরিবার সর্ম্পকে ভালভাবে জেনে নিতে হবে। তবে সদস্য সঞ্চয় ফেরত না নিয়ে একদল হতে অন্য দলে স্থানান্তর হতে ভর্তি ফি লাগবেনা ।

 

                        ৯.১.৮।      পুরাতন সদস্য/সদস্যাকে দলে পুনঃভর্তির ১ সপ্তাহ পরে ঋণ দেয়া যাবে। ঋণের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে পুর্বের দফা এক্ষেত্রে বিবেচনায় আনা যাবে। ঋণের আবেদনপত্রের খালি জায়গায় পুরাতন ঋণী ও পুর্বের ঋণের দফা লিখতে হবে ।

 

                        ৯.১.৯।       সদস্যদেরকে পূর্বের ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধের পর তহবিলের পর্যাপ্ততা ও ঋণ গ্রহীতাদের মান বিবেচনায় এনে এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় ঋণ প্রদান করা হবে। তবে সদস্য চাইলে পরবর্তীতে ঋণ প্রদান করা যাবে।

            ৯.২।    ঋণ বিতরণের পূর্বে আবশ্যিক করণীয়

 

                        ৯.২.১।       নতুন সদস্যদের প্রথম দফা ঋণের ক্ষেত্রে  প্রস্তাবিত মূল ঋণের বিপরীতে ৫% হারে সঞ্চয় জমা আছে  কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। ভর্তি ফি জমা দেয়ার পরই কেবল সঞ্চয় নেয়া যাবে। ভর্তি ফি জমা নেয়ার পর থেকে সপ্তাহ গণনা করা হবে। সদস্যদের নিয়মিত সর্বনিম্ন সাপ্তাহিক সঞ্চয় ২০ টাকা ধার্য্য করতে হবে ।

 

                        ৯.২.২।      ২য় দফায় প্রস্তাবিত মূল ঋণের বিপরীতে কমপক্ষে ১৫% সঞ্চয় জমা সাপেক্ষে ঋণ দেয়া যাবে । তবে প্রথম দফা ঋণের ক্ষেত্রে  প্রসতাবিত মূল ঋণের বিপরীতে ৫% হারে সঞ্চয় জমা আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে

                        ৯.২.৩।      স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন হলে অগ্রাধিকার দেয়া হবে ।

 

                        ৯.২.৪।       কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২) কর্তৃক সদস্যদের বাড়ী ঘর ও প্রকল্প সরজমিনে যাচাই করতে হবে ।

 

                        ৯.২.৫।      ঋণ বিতরণের ১ সপ্তাহ পূর্বে ঋণের আবেদন ফরম পূরণ করে সদস্যদের পাসপোর্ট সাইজের স্বামী ও স্ত্রীর যৌথ ছবি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২) কর্তৃক সত্যায়িত করে উপ-আঞ্চলিক ব্যবসহাপক (ডিআরএম)'র নিকট জমা দিতে হবে ।

 

                        ৯.২.৬।    ঋণের আবেদনপত্র পূরণঃ ঋণের আবেদন ফরম পুরণে মাঠ কর্মকর্তা (এফও)'দেরকে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়। তাই যে সকল কেন্দ্রে শিক্ষিত সদস্য রয়েছে বা ঋণ গ্রহীতার ছেলেমেয়ে বা আত্মীয়-স্বজন যদি কেউ শিক্ষিত থাকে তাহলে তাদেরকে দিয়েও ঋণ আবেদনপত্রের তথ্যসমূহ পুরণ করা যাবে। সংশ্লিষ্ট   মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২) তথ্যাবলী সঠিক আছে কিনা তা কেন্দ্রীয় সভায় ক্রস চেকিং করে নিতে হবে। উপ-আঞ্চলিক ব্যবসহাপক (ডিআরএম গ্রেড-১/২) ঋণের আবেদন ফরম স্বাভাবিক নিয়মে যাচাই করবেন ।

 

                    ৯.২.৭।    স্বামী অনুপস্থিতিতে ঋণের আবেদনপত্রে স্বাক্ষরকারীঃ কিছু কিছু সদস্যের স্বামী বে-রোজগার/ব্যবসায়িক কারণে দীর্ঘ সময় বাড়ীর বাইরে থাকে। এ সময়ে কোন সদস্যের ঋণ পরিশোধের পর পুনরায় ঋণ গ্রহণ করতে চাইলে ঋনের আবেদন ফরমে স্বামীর স্বাক্ষরের কারণে ঋণ বিতরণ স্বাভাবিক কারণে বিলম্ব হয়। এতে সংস্থা ও সদস্য উভয়ই ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এ সমস্যার সমাধানকল্পে নিম্নরুপ ব্যবসহা নেয়া যাবে -         

(ক)    সদস্যদের ঋণ পরিশোধের অন্তত ৪ সপ্তাহ আগে ঋণের আবেদন ফরম দিতে হবে। যখনই স্বামী বাড়ীতে আসবে তখনই সদস্য ফরমে স্বামীর স্বাক্ষর নিয়ে রাখবেন ।

 

(খ)     স্বামীর পরিবর্তে সাক্ষী হিসেবে একই সমিতির অন্তত  ২ জন সদস্যের স্বাক্ষর ফরমে নিতে হবে অথবা স্বামীর অনুপসিহতিতে সদস্যের সাবালক পুত্র সন্তান/স্বামীর নিকট আত্মীয়-স্বজন থাকলে তাদের স্বাক্ষর নিয়েও ঋণ বিতরণ করা যাবে ।

 

                        ৯.২.৮।    কেন্দ্র বদলীকালীন সময়ে ঋণের আবেদনপত্রে স্বাক্ষরদানকারীঃ  বৎসরে ২ (দুই) বার কেন্দ্র বদলীকালীন অর্থাৎ একজন কর্তৃক অন্যজনের কেন্দ্র দেখার সময়ে ঋণের আবেদনপত্রে ২ (দুই) জন মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২) অর্থাৎ সাময়িক দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২) এবং যার কেন্দ্র উভয়কেই স্বাক্ষর করতে হবে। বলাবাহুল্য কালেকশন সীটে সাময়িক দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২)'র নাম ও পরিচিতি পাশাপাশি ব্রেকেটে লিখতে হবে ।   

          ৯.৩।    ঋণের অনুমোদন

 

                    ৯.৩.১।      কেন্দ্র গঠনের ১ সপ্তাহ পরে কেন্দ্রের নিয়মিত সভায় সংস্থার ছাপানো ফরমে ১কপি ছবিসহ ঋণের জন্য আবেদন করা (আর্থ-সামাজিক জরিপ সহ)।

 

                        ৯.৩.২।      ঋণের আবেদন ফরম যথানিয়মে পূরণ করে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠ কর্মকর্তা ঋণ বিতরণের ১ সপ্তাহ পূর্বে উপ-আঞ্চলিক ব্যবসহাপক (ডিআরএম গ্রেড-১/২)'র কাছে অনুমোদনের জন্য জমা দিতে হবে।

 

                        ৯.৩.৩।      উপ-আঞ্চলিক ব্যবসহাপক (ডিআরএম গ্রেড-১/২) দৈনিক কমপক্ষে একাধিক কেন্দ্রের ৫টি ঋণের আবেদনপত্র সরজমিনে যাচাই করবেন। যাচাইয়ের বেলায় ৫,০০০-৮,০০০ টাকার ঊর্ধ্বে ৫%, ১০,০০০ টাকার ঊর্ধ্বে ১০%, ১৫,০০০ টাকার ঊর্ধ্বে ২৫% ও ২০,০০০ টাকার ঊর্ধ্বে ১০০% যাচাইয়ে সচেষ্ট থাকবেন। যে তারিখে আবেদন ফরমটি যাচাই করবেন সেদিনই উপ-আঞ্চলিক ব্যবসহাপক (ডিআরএম গ্রেড-১/২) আবেদন ফরমে যাচাইকৃত লিখে স্বাক্ষর করবেন। কেন্দ্রের মিটিং-এর দিন ছাড়াও উপ-আঞ্চলিক ব্যবসহাপক (ডিআরএম গ্রেড-১/২) সদস্যদের বাড়ীতে গিয়ে আবেদন ফরম যাচাই করতে পারবেন। যুত্তিুসংগত কারণে (যেমন- মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২) ছুটির জন্য সরাসরি কেন্দ্র থেকে কিস্তি ও সঞ্চয় আনার সময়ে) প্রতিদিন ৫টি ঋণের আবেদনপত্র যাচাই করতে না পারলে উপ-আঞ্চলিক ব্যবসহাপক (ডিআরএম গ্রেড-১/২)'কে দায়ী করা যাবে না।

 

                        ৯.৩.৪।      ঋণের পরিমাণ ১৫,০০০ টাকার ঊর্ধ্বে হলে উপ-আঞ্চলিক ব্যবসহাপক (ডিআরএম গ্রেড-১/২)'কে ঋণের প্রকল্প ভালভাবে যাচাই করে অনুমোদন দিতে হবে ।

         

          ৯.৪।     ঋণ বিতরণ

                    ৯.৪.১।       সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়ের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক, উপ-আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ও কর্মরত সকল মাঠ কর্মকর্তার উপসিহতিতে ঋণ বিতরণ করতে হবে ।

 

                        ৯.৪.২।       ঋণ মঞ্জুরীর পর ঋণের মোট টাকা উপ-আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (ডিআরএম গ্রেড-১/২) আঞ্চলিক ব্যবস্থাপকের উপস্থিতিতে ব্যাংক থেকে উত্তোলন/নগদ আদায় থেকে বিতরণ করবেন। মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২)'র  উপসিহতিতে ঋণ বিতরণ করে পাস বুক ও রেজিষ্টারে পোষ্টিং ও স্বাক্ষর দিবেন। ঋণ বিতরণ মাষ্টার রোল ও অঙ্গীকারনামা সম্বলিত ঋণের আবেদনপত্রটি সংশ্লিষ্ট মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২) এবং উপ-আঞ্চলিক ব্যবসহাপক (ডিআরএম গ্রেড-১/২)'র স্বাক্ষরসহ উপ-আঞ্চলিক কার্যালয়ে অফিসে সংরক্ষণ করবেন। মাষ্টার রোলের ক্রমিক নম্বর অনুসারে ঋণের আবেদনপত্রে  ক্রমিক নং লিখতে হবে । এই  ক্রমিক নং হবে মাস ভিত্তিক ।

 

                        ৯.৪.৩।      উপ-আঞ্চলিক ব্যবস্থাপকগণকে প্রতি সপ্তাহ শেষে সপ্তাহের মোট ঋণ বিতরণ সংস্থার ছাপানো ঋণ বিতরণ সামারী সীট ফরমে লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং যোগ টেনে রাখতে হবে। এভাবে মাস শেষে সকল সপ্তাহের ঋণ বিতরণের মোট হিসাব ঋণ বিতরণ সামারী সীটে লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং মাসের মোট ঋণ বিতরণের সকল আবেদন ফরমের উপরে ঋণ বিতরণ সামারী সীটটি সংযুক্ত করে শক্তভাবে বাঁধাইপূর্বক উপ-আঞ্চলিক কার্যালয়ে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে ।

 

                        ৯.৪.৪।       রবিবার - বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অবশ্যই ২:৩০ মিনিটের মধ্যে ব্যাকিং লেনদেন সম্পাদন হবে। কালেকশন সুষ্ঠুভাবে শেষ হলে প্রয়োজনে মাঠ থেকে দুপুর ১২:০০টার মধ্যে ফেরত আসা যাবে ।

 

            ৯.৫।    দফা ভিত্তিক ঋণের সিলিং

                    ৯.৫.১।    ১ম দফা ঋণের সিলিংঃ   আর্থ-সামাজিক ও ভৌগলিক অবস্থার প্রেক্ষিতে ঋণের অঞ্চল/এলকাভিত্তিক ১ম দফা ঋণের সিলিং সর্বোচ্চ  ১৫,০০০ টাকা ।

                        ৯.৫.২।    ঋণের সর্বোচ্চ সিলিংঃ   দফা ভিত্তিক প্রাপ্য ঋণ বিতরণ করতে করতে যতটুকু যায় ততটুকু পর্যন্ত যাওয়া যাবে ।

                        ৯.৫.৩।    ২য় ও তদূর্ধ্ব দফায় বৃদ্ধিঃ  সাধারণতঃ ঋণ গ্রহীতার দক্ষতা এবং বিগত ঋণের কিসিত যথাসময়ে পরিশোধের উপর নির্ভর করে পরবর্তী দফায় ১,০০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত সিলিং বৃদ্ধিসহ সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যমত করা যাবে। ১ নং ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যমত ঋণ গ্রহণ এবং সফলভাবে পরিশোধকারীদের দ্বিতীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শ্রেণীভূত্তু করে দ্বিতীয় পর্যায়ে ঋণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা যাবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্যোক্তা শ্রেণীর ঋণ ৩০,০০০ টাকা থেকে শুরত করে প্রতি বছর ১০,০০০ টাকা করে বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ ৭০,০০০ টাকা করা যাবে। তবে শর্ত থাকে যে, ফাউন্ডেশনের মাঠ পর্যায়ের বিনিয়োগকৃত ঋণসিহতির ৪০% ভাগের মধ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোত্তুা শ্রেণীর ঋণের পরিমান সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।   

 

                        ৯.৫.৪।       কোন সদস্য বিগত ঋণ চক্রে ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণের জাম্পিঙের সুযোগ গ্রহণ না করে থাকলে সে সদস্যকে ২,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জাম্পিং দেয়া যাবে । জাম্পিঙের ক্ষেত্রে সঞ্চয়ের পরিমান বিবেচনায় আনতে হবে ।

 

                        ৯.৫.৫।      পুরাতন সদস্য কোন ধরণের খেলাপী না করলে বা সংসহার সাথে কোন অনিয়ম না করে স্বেচ্ছায় কেন্দ্র ত্যাগ করে থাকলে তারা পুনরায় নতুন করে ভর্তি হয়ে পুরাতন সদস্য হিসেবে ঋণের সিলিংয়ের সুযোগ চাইলে সংশ্লিষ্ট মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২)'দের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধামত নিবেন। এক্ষেত্রে ঋণের বিপরীতে নির্ধারিত সঞ্চয় এককালীন দিতে হবে ।

 

                        ৯.৫.৬।      যারা ঋণ না নিয়েও নিয়মিত সাপ্তাহিক সঞ্চয় জমা দিয়ে যাচ্ছেন তাদের সদস্যপদ বাতিল করার দরকার নেই ।

 

                        ৯.৫.৭।      ঋণ গ্রহীতাদের আবেদনে নেতা/নেত্রীদের সুপারিশের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক নয়। যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন নেতা/নেত্রী স্বাক্ষর করতে রাজী না হয় এর বিকল্প হিসেবে ঋণীদের নিকটতম আত্মীয়দের মধ্যে থেকে যে কোন কেন্দ্রের যে কোন সদস্য স্বাক্ষর করলেই চলবে।

 

          ৯.৬।    কিস্তি আদায় পদ্ধতি

 

                        ৯.৬.১।    ঋণের কিস্তি নির্ধারণঃ সকল প্রকার ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বিতরণকৃত আসল টাকার সাথে ১১% সার্ভিস চার্জ ধরে মোট প্রদেয় নির্ণয় করতে হবে । যেমনঃ ১,০০০ টাকা আসল হলে তার সার্ভিস চার্জ হবে ১১০ টাকা। তাহলে মোট প্রদেয় ঋণের পরিমাণ হবে ১,১১০ টাকা। মোট প্রদেয়কে সাপ্তাহিক সমান ৪৮টি কিস্তিতে আদায় করতে হবে ।

 

                        ৯.৬.২।    প্রথম কিস্তি সময়ঃ ঋণ বিতরণের অন্তত ১৪ দিন পর ১ম কিস্তি  আনা (অর্থাৎ যে সপ্তাহে ঋণ বিতরণ করা হবে তার পরের সপ্তাহ গ্যাপ দিয়ে পরবর্তী সপ্তাহে কিস্তি আনতে হবে)। এতে ঋণ গ্রহীতা টাকা বিনিয়োগ করে আয় থেকে কিস্তি প্রদানের সুযোগ পাবে । চেষ্টা করতে হবে, যে বারে মিটিং হয় সে বারে ঋণ বিতরণ করা। ফলে মাঝের সপ্তাহ বাদ দিয়ে পরবর্তী সপ্তাহ থেকে নিয়মিত সাপ্তাহিক কিস্তির ঋণ আদায় করা যাবে ।

 

                        ৯.৬.৩।      ১ জন ঋণ গ্রহীতার ঋণ গ্রহণের এক বছরের মধ্যে ৬ টি সপ্তাহে কিস্তি দিতে হবে নানিম্নে গ্রেইস্ পিরিয়ডসহ ৫২ সপ্তাহের হিসাব দেয়া হলোঃ

 

 

গ্রেইস্ পিরিয়ডঃ

১ম কিস্তি  শুরত হয় সর্বোচ্চ ১৪ দিন পর

  ২ সপ্তাহ

 

২ ঈদে সরকারী ছুটির জন্য কিস্তি আদায় হয় না

  ২ সপ্তাহ

 

অন্যান্য সরকারী ছুটির জন্য কিস্তি আদায় হয় না

২সপ্তাহ

 

 

  ৬ সপ্তাহ

কিস্তি আদায়ঃ

সাপ্তাহিক কিস্তির সংখ্যা

৪৬ সপ্তাহ

 

মোটঃ

৫২ সপ্তাহ

 

 

                                         

                    ৯.৬.৪।    ঋণের আদায়যোগ্য পূর্বদিন বিকেলে নির্ণয় করাঃ     ফাউন্ডেশনের  নিয়মানুসারে প্রতিদিন সকাল ৮:০০ টার মধ্যে মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২)'দের মাঠে যেতে হবে । সকাল বেলা তাড়াহুড়া করে দলে যেতে হয় বলে অনেক সময় সকালে প্রতিদিনের আদায়যোগ্য বের করতে কিছুটা সমস্যা হবে। সময়ের অভাবে উপ-আঞ্চলিক ব্যবসহাপক (ডিআরএম গ্রেড-১/২) কর্তৃক তা অনেক সময় ইচ্ছা থাকা সত্তেবও যাচাই করা সম্ভব হবে না । তাই প্রতিদিন বিকালে অফিস থেকে কর্মীদের বিদায়ের প্রাক্কালে পরের দিনের আদায়যোগ্য কত তা নির্ধারণ করতে হবে । উপ-আঞ্চলিক ব্যবসহাপক (ডিআরএম গ্রেড-১/২) কর্তৃক যাচাই করে চূড়ামত হওয়ার পর দৈনিক আদায়যোগ্য তথ্য বোর্ডে বিকালে লিখে অফিস ত্যাগ করতে হবে ।

 

                        ৯.৬.৫।    হরতালের দিনের কিস্তি কখন কিভাবে আনা হবেঃ   হরতালের দিনে কিস্তি আদায়ের জন্য কর্মীদের মাঠে যাওয়া, কেন্দ্রের মিটিং করা বা নগদ টাকা নিয়ে অফিসে ফেরৎ আসা ঝুকিপূর্ণ মনে হলে এর বিকল্প ব্যবসহা হিসাবে হরতাল যদি পূর্ব থেকেই ঘোষণা হয়ে থাকে তাহলে হরতালের আগের সপ্তাহের মিটিং-এ অথবা পরের সপ্তাহের মিটিং-এ ডবল কিস্তি আদায় করতে হবে । এটা এলাকার অবসহা বুঝে ব্যবসহা গ্রহণ করতে হবে। যে সব উপ-অঞ্চলের অবসহান শহর থেকে দূরে অর্থাৎ গ্রামাঞ্চলে সে সব উপ-অঞ্চলে হয়তো এ ব্যবস্থা না নিলেও চলবে ।

                    ৯.৬.৬।    জাতীয়, সহানীয় বা উপ-নির্বাচন অর্থাৎ যে কোন নির্বাচনের দিন কিস্তি আদায়ঃ   উক্ত দিনের যাবতীয় কিস্তি ও সঞ্চয়ের টাকা পূর্বের দিন বিশেষ ব্যবসহাধীনে আদায় করতে হবে । উল্লেখ্য যে, পরিস্থিতিগত কারণে ১-৪টি কেন্দ্রের কিস্তি আনা সম্ভব না হলে উপ-আঞ্চলিক ব্যবসহাপক (ডিআরএম গ্রেড-১/২)'র পূর্ব অনুমোদন সাপেক্ষে নির্বাচনের পরের দিন আনা যাবে ।

 

                        ৯.৬.৭।    সর্বশেষ ৬ কিস্তি অগ্রিম আনা পদ্ধতিঃ   কোন সদস্য ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ০৮(‌আট) কিস্তি অগ্রিম প্রদানের সুযোগ গ্রহণ করতে পারবে। স্বেচ্ছায় যদি কোন সদস্য ৬ কিস্তি অগ্রিম দেয়, সেক্ষেত্রে অগ্রিম আদায়কৃত কিস্তি আদায়যোগ্য হিসাবে দেখাতে হয় । এতে আদায়যোগ্য ও আদায়কৃত সমান হয় ।  এ জন্য সার্ভিস চার্জ মওকুফ হবে না । এই ৬ (‌আট) কিস্তি একত্রে আনার জন্য সদস্যদের নিকট হতে অগ্রিম সাপ্তাহিক সঞ্চয় আনতে হবে না । তবে সদস্যরা ইচ্ছা করলে স্বেচ্ছায় সঞ্চয় জমা দিতে পারবেন । কিমও অনেক ক্ষেত্রে অগ্রিম আদায়কৃত কিস্তি আদায়যোগ্যের মধ্যে অন্তর্ভূত্তু না থাকায় একদিকে যেমন আদায়ের হার ১০০% এর অধিক হচ্ছে । অন্যদিকে প্রকৃত খেলাপী নির্ণয় করা যাচ্ছে না ।

 

         

          ৯.৭।     পলাতক সদস্যের সার্ভিস চার্জ সম্পর্কে করণীয়     

 

সদস্য পলাতক থাকলে সদস্যের আত্মীয়-স্বজন/এলাকার লোক কর্তৃক পলাতক সদস্যের টাকা পরিশোধ করলে অনেক সময় শর্তারোপ করা হয় যে, সার্ভিস চার্জ মওকুফ করতে হবে । এক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিচার বিশ্লেষণ করে অবশিষ্ট ঋণের আসল টাকা নেয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট উপ-আঞ্চলিক ব্যবসহাপক (ডিআরএম গ্রেড-১/২)/আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (আরএম) সরেজমিনে ঘটনা যাচাই সাপেক্ষে সার্ভিস চার্জের পাওনা টাকা আদায় করতে না পারলে তা রেজিষ্টারে সিহতি হিসেবেই রেখে দিতে হবে । এক্ষেত্রে সঞ্চয়ের টাকা সমন্বয় করে ঋণ আদায় করা যাবে । তাতে করে রেজিষ্টারে সঞ্চয় কলাম খালি থাকবে। উত্তু কলামে পলাতক কথাটি লাল কালি দিয়ে লিখতে হবে । রেজিষ্টারের সঞ্চয় আদায় ফাঁকা কলামে মমতব্য লিখে আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (আরএম) স্বাক্ষর করবেন । সদস্য পরবর্তীতে এলাকায় আসলে তার নিকট হতে সার্ভিস চার্জের পাওনা টাকা আদায় করার উদ্যোগ নিতে হবে । দলীয় সদস্যদের/তার আত্মীয়-স্বজনের নিকট হতে উত্তু সার্ভিস চার্জের টাকা আদায়ের জন্য পরবর্তীতে চাপ না দেয়াই কেন্দ্রের জন্য মঙ্গলজনক হবে ।

 

            ৯.৮।    ঋণ ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহের একটি ধারণাঃ

 

  • ফসল উৎপাদন;
  • ধান ভানা, মুড়ি ভাজা;
  • গরত মোটা তাজাকরণ;
  • গাভী পালন ও ছাগল পালন;
  •  হাঁস-মুরগী পালন;
  • মৎস চাষ;
  • শাক সব্জি চাষ;
  • মুদি, মনোহারী দোকান;
  • বাঁশ বেতের কাজ;
  • তরি-তরকারি ও কাঁচামালের ব্যবসা;
  • কাপড় বুনন;
  • কুটির শিল্প;
  • ফেরী ব্যবসা;
  • তৈরী পোশাকের ব্যবসা;
  • শাড়ী কাপড়ের ব্যবসা; ও
  • রিক্সা/ভ্যান ।

            ৯.১০।   পাস বইয়ের সাথে মাঠ কর্মকর্তা'র রেজিষ্টারের হিসাব ক্রস চেকিং      

 

                        উপ-আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (ডিআরএম গ্রেড-১/২) কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২) রেজিষ্টারের সাথে সদস্যদের পাসবই যাচাই করে স্বাক্ষর করবেন । নতুন মাঠ কর্মকর্তাদের কেন্দ্রের পাস বই প্রয়োজনে অফিসে এনে মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২) রেজিষ্টারের সাথে উপ-আঞ্চলিক ব্যবসহাপক (ডিআরএম গ্রেড-১/২) যাচাই করে দেখবেন । এতে মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২)'র কর্মদক্ষতা যাচাই করা যাবে । ভুলত্রুটিও সংশোধন করা যাবে । দক্ষ কর্মীদের দিয়ে ক্রস চেকিং করানো যাবে । তবে উপ-আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (ডিআরএম গ্রেড-১/২)'কে অবশ্যই পুনরায় যাচাই করে পাস বই স্বাক্ষর দিতে হবে ।

 

            ৯.১১।   কেন্দ্র আমতঃবদলীকালীন সময়ে সীটে  মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২)'র নাম লিখা ও অনিয়ম চিহিুতকরণ প্রসঙ্গে

 

                    কেন্দ্র বদলীকালীন সময়ে কালেকশন সীটে  মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২)'র নাম লিখাঃ  প্রতি চার মাস অন্তর অন্তর মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২)'দের মধ্যে অর্থাৎ জানুয়ারী মাসে মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২)'র পুরো কেন্দ্র বদলী এবং মে ও সেপ্টেম্বর মাসে সাময়িক  ১ মাসের  জন্য আমতঃবদলী কার্যকরী করতে হবে । কে কোন কেন্দ্র দেখবেন তা নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (আরএম) । এ সময়ে কালেকশন সীটে যে মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২) কেন্দ্র দেখবেন সেই মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২)'র নাম লিখতে হবে । তবে যে মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২) কেন্দ্র দেখবেন সে মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২)'র নামের পাশাপাশি ব্রেকেটে লিখতে হবে। যেমন-রহিমের দল করিম কর্তৃক দেখা হলে কালেকশন সীটে রহিমের নামই লিখতে হবে। রহিমের নামের পার্শ্বে ব্রেকেটে সংক্ষেপে করিমের নামও লিখতে হবে ।

 

                        মহিলা মাঠ কর্মকর্তা (এফও গ্রেড-১/২)'দের কেন্দ্র বদলীর সময় করণীয়ঃ  প্রতি বছর অর্থ্যাৎ জানুয়ারী মাসে মাঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে কেন্দ্র আমতঃবদলীকালীন সময়ে মহিলা মাঠ কর্মকর্তাদের কেন্দ্র যেন উপ-অঞ্চল থেকে বেশী দূরে না পড়ে সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে ।                 

 

                        কেন্দ্রের অনিয়ম চিহিুতকরণঃ  অন্তকেন্দ্র বদলীর মূল উদ্দেশ্য হলো কেন্দ্রের সমস্যা চিহিুত করা যেমন, মাঠ কর্মকর্তা কর্তৃক আত্মসাৎ, দলনেতা/নেত্রী কর্তৃক অনিয়ম, সঞ্চয় উত্তোলন অনিয়ম, একজন সদস্য কর্তৃক একাধিক ঋণ গ্রহণ ইত্যাদি। অনিয়মসমূহ বের করার জন্য নিমণলিখিত কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে -

 

(ক)    কেন্দ্রের অনুপস্থিতিত সদস্যের বাড়ীতে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা কি তা খুঁজে বের করা।

 

(খ)     প্রতিদিন অন্তত ১টি কেন্দ্রকে ভালভাবে যাচাই-বাছাই করা বা সন্দেহ ভাজন অতি চালাক সদস্যকে অর্থাৎ, অন্য সদস্যদের ঋণ নিয়েছে কিনা তার বিশেষভাবে যাচাইকরণ ।

  (গ)     সাপ্তাহিক সভা শেষ হওয়ার পর অনানুষ্ঠানিকভাবে ২/৪ জন সদস্যের সাথে গভীরভাবে কেন্দ্রের অবস্থা জানার জন্য চেষ্টা করতে হবে ।


Share with :